২ তলা বাড়ি তৈরির খরচ কীভাবে হিসাব করবেন ?

নিজের জমিতে ভূতল ও প্রথম তলা মিলিয়ে দুই তলা বাড়ি তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে নির্মাণকাজ শুরু করার আগে মোট খরচের একটি বাস্তবসম্মত হিসাব তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক বাড়ির মালিক শুধু প্রতি বর্গফুটে কত টাকা খরচ হবে, সেই হিসাব করেই পুরো নির্মাণ ব্যয় অনুমান করেন। কিন্তু বাস্তবে একটি বাড়ির নির্মাণ খরচ নির্ভর করে বাড়ির আয়তন, নকশা, মাটির ধরন, কাঠামোর নকশা, রড, সিমেন্ট, ইট বা হালকা নির্মাণ ব্লক, টাইলস, রং, বৈদ্যুতিক কাজ, জলের ব্যবস্থা, দরজা-জানালা এবং অন্যান্য সাজসজ্জার মানের উপর।

সহজ হিসাবের সূত্র:
মোট নির্মাণ ব্যয় = মোট নির্মিত এলাকা × প্রতি বর্গফুট নির্মাণ ব্যয় + অতিরিক্ত কাজ + জরুরি অতিরিক্ত বরাদ্দ

এই লেখায় ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে ভূতল ও প্রথম তলা মিলিয়ে দুই তলা বাড়ির নির্মাণ খরচ হিসাব করবেন, কোন কোন খাতে টাকা খরচ হয় এবং কীভাবে নির্মাণ বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

১. প্রথমে মোট নির্মিত এলাকা হিসাব করুন

বাড়ি তৈরির খরচ হিসাব করার প্রথম ধাপ হল মোট নির্মিত এলাকা নির্ধারণ করা।

ধরুন আপনার ভূতলের নির্মিত এলাকা ১,০০০ বর্গফুট এবং প্রথম তলার নির্মিত এলাকাও ১,০০০ বর্গফুট।

ভূতল = ১,০০০ বর্গফুট
প্রথম তলা = ১,০০০ বর্গফুট
মোট নির্মিত এলাকা = ২,০০০ বর্গফুট

এই ২,০০০ বর্গফুটের ভিত্তিতেই মূল নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব করা যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ: জমির মোট আয়তন এবং বাড়ির নির্মিত এলাকা এক বিষয় নয়। আপনার জমি ২,০০০ বর্গফুট হলেও বাড়ি পুরো জমির উপর তৈরি নাও হতে পারে। খোলা জায়গা, গাড়ি রাখার স্থান, চারপাশের ফাঁকা জায়গা এবং স্থানীয় নির্মাণবিধির কারণে নির্মিত এলাকা কম হতে পারে।

একটি সহজ উদাহরণ

ধরুন জমির মাপ ৩০ ফুট × ৫০ ফুট।

৩০ × ৫০ = ১,৫০০ বর্গফুট জমির আয়তন

কিন্তু যদি প্রতি তলায় ১,১০০ বর্গফুট বাড়ি তৈরি করা হয়, তাহলে:

১,১০০ × ২ তলা = ২,২০০ বর্গফুট মোট নির্মিত এলাকা

তাই বাড়ি তৈরির খরচ হিসাব করার সময় জমির মোট আয়তন নয়, প্রকৃত নির্মিত এলাকাকে ভিত্তি করা উচিত।

২. প্রতি বর্গফুট নির্মাণ ব্যয় কীভাবে ধরবেন?

প্রতি বর্গফুট নির্মাণ ব্যয় কোনো স্থায়ী সংখ্যা নয়। একই এলাকায় দুটি বাড়ির নির্মাণ ব্যয়ও আলাদা হতে পারে।

এর কারণ হল বাড়ির নির্মাণের মান ও ব্যবহার করা উপকরণের পার্থক্য।

  • সাধারণ মানের নির্মাণ
  • মাঝারি মানের নির্মাণ
  • উন্নত মানের নির্মাণ
  • অত্যাধুনিক বা বিলাসবহুল নির্মাণ

প্রতিটি ক্ষেত্রে রড, সিমেন্ট, টাইলস, দরজা, জানালা, স্যানিটারি সামগ্রী, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রং এবং অন্যান্য উপকরণের দাম আলাদা হতে পারে।

সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি:
প্রথমে বাড়ির নকশা ও কাঠামোর নকশা তৈরি করুন। তারপর প্রয়োজনীয় উপকরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বিস্তারিত বাজেট তৈরি করুন।

৩. একটি দুই তলা বাড়ির খরচ কোন কোন ভাগে যায়?

একটি ভূতল ও প্রথম তলা মিলিয়ে দুই তলা বাড়ির নির্মাণ ব্যয় সাধারণত নিচের বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়।

খরচের ক্ষেত্রযা যা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে
জমি প্রস্তুতিজমি পরিষ্কার, মাটি কাটা, মাটি সরানো ইত্যাদি
ভিত্তিগর্ত খোঁড়া, কংক্রিট, ভিত্তি ও লোহার রড
কংক্রিট কাঠামোস্তম্ভ, বিম, ছাদ, সিঁড়ি ইত্যাদি
দেওয়াল নির্মাণইট বা নির্মাণ ব্লক, গাঁথুনির মশলা ও শ্রমিকের খরচ
প্লাস্টারভিতরের ও বাইরের দেওয়ালের প্লাস্টার
মেঝে ও টাইলসমেঝের টাইলস, দেওয়ালের টাইলস, রান্নাঘর ও বাথরুমের টাইলস
দরজা ও জানালাদরজা, জানালা, কাঠামো, গ্রিল ও অন্যান্য সামগ্রী
বৈদ্যুতিক কাজতার, সুইচ, বোর্ড, আলো ও অন্যান্য সংযোগ
জলের ব্যবস্থাজলের পাইপ, নিকাশি পাইপ ও অন্যান্য সংযোগ
রংপুটি, প্রাথমিক প্রলেপ, ভিতরের ও বাইরের রং
স্যানিটারি সামগ্রীকমোড, বেসিন, কল, ঝরনা ও অন্যান্য সামগ্রী
অন্যান্য কাজজলরোধী ব্যবস্থা, রেলিং, রান্নাঘরের কাজ, সীমানা প্রাচীর ইত্যাদি

৪. দুই তলা বাড়ির একটি নমুনা হিসাব

ধরা যাক একটি বাড়ির ভূতল ১,০০০ বর্গফুট এবং প্রথম তলাও ১,০০০ বর্গফুট।

১,০০০ + ১,০০০ = ২,০০০ বর্গফুট মোট নির্মিত এলাকা

এখন শুধুমাত্র হিসাব বোঝানোর জন্য যদি নির্বাচিত নির্মাণমান অনুযায়ী প্রতি বর্গফুট নির্মাণ ব্যয় ২,০০০ টাকা ধরা হয়, তাহলে:

২,০০০ × ২,০০০ টাকা = ৪০,০০,০০০ টাকা

অর্থাৎ এই উদাহরণে আনুমানিক মূল নির্মাণ ব্যয় ৪০ লক্ষ টাকা।

খেয়াল রাখবেন: এটি কোনো বর্তমান বাজারদর বা নির্দিষ্ট নির্মাণের দর নয়। শুধুমাত্র কীভাবে হিসাব করতে হয় তা বোঝানোর জন্য উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত খরচ বাড়ির নকশা, মাটি, উপকরণ, শ্রমিকের দর, এলাকার বাজারদর এবং নির্মাণের মান অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে।

৫. ভিত্তির খরচ কীভাবে হিসাব করবেন?

দুই তলা বাড়ির ক্ষেত্রে ভিত্তির নকশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিত্তিকে পুরো বাড়ির ওজন নিরাপদভাবে বহন করতে হয়।

ভিত্তির খরচ নির্ভর করতে পারে:

  • মাটির বহনক্ষমতা
  • মাটির পরীক্ষার ফলাফল
  • ভিত্তির ধরন
  • স্তম্ভের অবস্থান
  • বাড়ির মোট ওজন
  • কাঠামোর নকশা
  • ভিত্তির গভীরতা
  • লোহার রডের প্রয়োজনীয়তা
  • সিমেন্ট ও কংক্রিটের মান

পাশের বাড়ির ভিত্তি দেখে নিজের বাড়ির ভিত্তি একইভাবে তৈরি করা নিরাপদ নয়। প্রতিটি বাড়ির জন্য মাটি ও কাঠামোর প্রয়োজন অনুযায়ী ভিত্তির নকশা করা উচিত।

রড, সিমেন্ট, টাইলস, রং, নির্মাণ রাসায়নিক এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে জানতে Pahari Home Solutions-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

৭৫৮৪০৫৫৩৫৬
📞 এখনই ফোন করুন💬 হোয়াটসঅ্যাপ করুন🛒 আমাদের পণ্য দেখুন

৬. লোহার রডের খরচ কীভাবে হিসাব করবেন?

পাকা বাড়ির কংক্রিট কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণসামগ্রী হল লোহার রড

লোহার রড ব্যবহার হতে পারে:

  • ভিত্তিতে
  • পাদানিতে
  • স্তম্ভে
  • বিমে
  • ছাদে
  • সিঁড়িতে
  • দরজা-জানালার উপরের কাঠামোতে
  • অন্যান্য কংক্রিট কাঠামোতে
লোহার রডের মোট খরচ = প্রয়োজনীয় রডের মোট ওজন × প্রতি কেজি বা টনের বর্তমান দর

রডের প্রকৃত পরিমাণ কাঠামোর নকশা এবং লোহার রডের বিস্তারিত তালিকা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

লোহার রড কেনার সময় কী দেখবেন?

  • সঠিক মান ও শ্রেণি
  • প্রস্তুতকারক সংস্থা
  • প্রয়োজনীয় মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়েছে কি না
  • পরীক্ষার শংসাপত্র
  • ওজন
  • রডের ব্যাস
  • উৎপাদনের তথ্য
  • বিল ও ক্রয়ের প্রমাণ

৭. সিমেন্টের খরচ কীভাবে হিসাব করবেন?

সিমেন্ট ব্যবহার হয় কংক্রিট, গাঁথুনি, প্লাস্টার, মেঝে এবং বিভিন্ন নির্মাণকাজে।

সিমেন্টের মোট প্রয়োজন নির্ভর করে বাড়ির নকশা, কংক্রিটের পরিমাণ, গাঁথুনির পরিমাণ এবং অন্যান্য কাজের উপর।

  • কংক্রিটের কাজে
  • ভিত্তির কাজে
  • ইটের গাঁথুনিতে
  • প্লাস্টারে
  • মেঝের কাজে
  • টাইলস বসানোর কাজে
  • জলরোধী ব্যবস্থায়
  • অন্যান্য নির্মাণকাজে
সিমেন্টের মোট খরচ = প্রয়োজনীয় বস্তার সংখ্যা × প্রতি বস্তার বর্তমান দর

কোন কাজে কোন ধরনের সিমেন্ট ব্যবহার করা হবে তা প্রকৌশলীর পরামর্শ এবং নির্মাণের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

৮. ইট বা হালকা নির্মাণ ব্লকের খরচ

দেওয়াল তৈরির জন্য সাধারণ ইট অথবা হালকা নির্মাণ ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে।

খরচ হিসাব করার সময় দেখতে হবে:

  • মোট দেওয়ালের পরিমাণ
  • দেওয়ালের পুরুত্ব
  • দরজা ও জানালার ফাঁকা অংশ
  • ইট বা ব্লকের মাপ
  • গাঁথুনির মশলার প্রয়োজন
  • পরিবহণ খরচ
  • রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকের খরচ

শুধু এক হাজার ইটের দাম জানলেই মোট খরচ জানা যায় না। পরিবহণ, ভাঙা বা নষ্ট হওয়া ইট, গাঁথুনির মশলা এবং শ্রমিকের খরচও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

৯. দেওয়াল প্লাস্টারের খরচ

প্লাস্টারের খরচ সাধারণত দেওয়ালের মোট ক্ষেত্রফল এবং প্লাস্টারের পুরুত্বের উপর নির্ভর করে।

ভিতরের এবং বাইরের দেওয়ালের প্লাস্টারের কাজ আলাদা করে হিসাব করা ভালো।

হিসাবের সময় বিবেচনা করুন:

  • ভিতরের দেওয়ালের ক্ষেত্রফল
  • বাইরের দেওয়ালের ক্ষেত্রফল
  • ছাদের ক্ষেত্রফল
  • প্লাস্টারের পুরুত্ব
  • সিমেন্ট ও বালির অনুপাত
  • শ্রমিকের দর

১০. টাইলস ও মেঝের খরচ

বাড়ির সাজসজ্জার খরচের একটি বড় অংশ টাইলস ও মেঝের কাজে যেতে পারে।

টাইলস কেনার সময় শুধু প্রতি বর্গফুটের দাম দেখলে হবে না। এর সঙ্গে আরও কিছু খরচ যুক্ত হয়।

  • টাইলসের দাম
  • টাইলস বসানোর আঠা বা মশলা
  • জোড় ভরাটের উপকরণ
  • মিস্ত্রির খরচ
  • কাটাকাটির কারণে অপচয়
  • পরিবহণ খরচ

বাথরুম ও রান্নাঘরের দেওয়ালে টাইলস লাগালে সেই অতিরিক্ত ক্ষেত্রফলও আলাদা করে হিসাব করতে হবে।

🏠 বাড়ির জন্য টাইলস খুঁজছেন?

মেঝে, দেওয়াল, বাথরুম ও রান্নাঘরের জন্য বিভিন্ন ধরনের টাইলস দেখতে Pahari Home Solutions-এর পণ্যসমূহ দেখুন।

🛍️ পণ্য দেখুন📞 ফোন করুন💬 হোয়াটসঅ্যাপ করুন

১১. দরজা ও জানালার খরচ

দরজা ও জানালার দাম ব্যবহৃত উপকরণ, নকশা, মাপ এবং গুণমানের উপর নির্ভর করে।

যেমন:

  • কাঠের দরজা
  • সমতল দরজা
  • অ্যালুমিনিয়ামের জানালা
  • কৃত্রিম উপাদানের জানালা
  • কাচের জানালা
  • লোহার গ্রিল
  • নিরাপত্তা দরজা

প্রতিটি দরজা ও জানালার মাপ, সংখ্যা, কাঠামো, কাচ, কবজা, হাতল এবং বসানোর খরচ আলাদা করে হিসাব করলে বাজেট অনেক বেশি নির্ভুল হবে।

১২. বৈদ্যুতিক কাজের খরচ

বৈদ্যুতিক কাজের খরচ শুধু তারের উপর নির্ভর করে না।

এর মধ্যে থাকতে পারে:

  • বৈদ্যুতিক তার
  • সুইচ
  • প্লাগ ও সকেট
  • বিদ্যুৎ বিতরণ বাক্স
  • নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র
  • বিদ্যুতের পাইপ
  • আলোর সংযোগ
  • পাখার সংযোগ
  • শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সংযোগ
  • গিজারের সংযোগ
  • ইন্টারনেট ও টেলিভিশনের সংযোগ
  • ভূ-সংযোগ ব্যবস্থা
  • শ্রমিকের খরচ

ভবিষ্যতে বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, গিজার, ওয়াশিং মেশিন বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে শুরুতেই সেই অনুযায়ী বৈদ্যুতিক নকশা করা ভালো।

১৩. জলের পাইপ ও স্যানিটারি ব্যবস্থার খরচ

জলের সরবরাহ এবং নিকাশি ব্যবস্থা বাড়ির নির্মাণ বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এর মধ্যে থাকতে পারে:

  • জলের পাইপ
  • পাইপের সংযোগ সামগ্রী
  • বাথরুমের জলের ব্যবস্থা
  • নিকাশি পাইপ
  • কমোড
  • বেসিন
  • কল
  • ঝরনা
  • রান্নাঘরের জলের সংযোগ
  • জলের ট্যাঙ্কের সংযোগ
  • বর্জ্যজল নিষ্কাশন ব্যবস্থা

১৪. রং করার খরচ

বাড়ির রং করার খরচ দেওয়ালের ক্ষেত্রফল, রঙের মান, প্রলেপের সংখ্যা এবং কাজের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

সাধারণত এর মধ্যে থাকে:

  • দেওয়ালের মসৃণকরণ পুটি
  • প্রাথমিক প্রলেপ
  • ভিতরের রং
  • বাইরের রং
  • জলরোধী প্রলেপ
  • ছাদের রং
  • শ্রমিকের খরচ

পশ্চিমবঙ্গের মতো বর্ষাপ্রবণ এলাকায় বাইরের দেওয়ালের ক্ষেত্রে বৃষ্টি, আর্দ্রতা এবং জলরোধী ব্যবস্থার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিত।

১৫. জলরোধী ব্যবস্থার খরচ ভুলে যাবেন না

বাড়ির বিভিন্ন অংশে জলরোধী ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।

  • ছাদ
  • বাথরুম
  • বারান্দা
  • রান্নাঘরের ভেজা অংশ
  • মাটির নিচের অংশ
  • বাইরের দেওয়াল
  • জলের ট্যাঙ্কের অংশ

সঠিক জলরোধী উপকরণ নির্বাচন এবং কাজের আগে দেওয়াল বা পৃষ্ঠের সঠিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১৬. শ্রমিকের খরচ কীভাবে হিসাব করবেন?

নির্মাণকাজের শ্রমিকের খরচ সাধারণত দুইভাবে হিসাব করা হয়।

  • প্রতি বর্গফুট হিসেবে
  • প্রতিটি কাজ আলাদাভাবে ধরে

যেমন:

  • মাটি কাটার কাজ
  • কংক্রিটের কাজ
  • রড বাঁধার কাজ
  • ঢালাইয়ের কাঠামো তৈরির কাজ
  • ইটের গাঁথুনি
  • প্লাস্টার
  • টাইলস বসানো
  • রং করা
  • বৈদ্যুতিক কাজ
  • জলের পাইপের কাজ

আপনার এলাকার দক্ষ শ্রমিকের প্রাপ্যতা, কাজের জটিলতা এবং নির্মাণের সময় অনুযায়ী শ্রমিকের দর পরিবর্তিত হতে পারে।

১৭. সিঁড়ির খরচ আলাদা করে ধরুন

দুই তলা বাড়িতে সিঁড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত ও সাজসজ্জার অংশ।

সিঁড়ির খরচের মধ্যে থাকতে পারে:

  • কংক্রিটের সিঁড়ি
  • লোহার রড
  • সিমেন্ট
  • বালি ও পাথর
  • ঢালাইয়ের কাঠামো
  • সিঁড়ির টাইলস বা পাথর
  • হাতল বা রেলিং
  • রং

সিঁড়ির নকশা ও আকার পরিবর্তন হলে মোট খরচও পরিবর্তিত হতে পারে।

১৮. যে অতিরিক্ত খরচগুলি অনেকেই বাজেটে ধরেন না

নির্মাণের শেষদিকে বাজেট বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ হল শুরুতে কিছু অতিরিক্ত খরচ হিসাবের মধ্যে না রাখা।

  • মাটি পরীক্ষা
  • স্থাপত্য নকশা
  • কাঠামোর নকশা
  • অনুমোদন সংক্রান্ত খরচ
  • জমি প্রস্তুতি
  • অস্থায়ী বিদ্যুৎ
  • অস্থায়ী জলের ব্যবস্থা
  • পরিবহণ
  • উপকরণ ওঠানো-নামানো
  • উঁচুতে কাজ করার কাঠামো
  • জলরোধী ব্যবস্থা
  • রেলিং
  • রান্নাঘরের কাজ
  • আলমারি
  • সাজসজ্জার ছাদ
  • সীমানা প্রাচীর
  • প্রধান দরজা
  • নিকাশি ব্যবস্থা
  • বাইরের সৌন্দর্যায়ন
মনে রাখবেন: জমি কেনার খরচ, জমির নিবন্ধন খরচ, ঋণের সুদ, আসবাবপত্র এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির খরচ সাধারণ নির্মাণ ব্যয়ের বাইরে আলাদাভাবে রাখা ভালো।

১৯. জরুরি অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা রাখুন

নির্মাণকাজে সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী খরচ হবে এমন নয়। উপকরণের দাম পরিবর্তন, নকশায় পরিবর্তন, অতিরিক্ত কাজ, পরিবহণের সমস্যা বা জমির অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে খরচ বাড়তে পারে।

তাই মোট নির্মাণ বাজেটের একটি অংশ অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত খরচের জন্য আলাদা রাখা ভালো।

কত শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ রাখা হবে তা প্রকল্পের ধরন ও নির্মাণের পরিমাণ অনুযায়ী স্থপতি, প্রকৌশলী বা নির্মাণ পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা উচিত।

২০. নির্মাণ খরচ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

কাজ শুরু করার আগে বিস্তারিত হিসাব তৈরি করুন

শুধু একটি মোট টাকার অঙ্ক ধরে কাজ শুরু না করে প্রতিটি কাজ ও উপকরণের আলাদা হিসাব তৈরি করুন।

উপকরণের মান আগে নির্ধারণ করুন

রড, সিমেন্ট, টাইলস, রং, স্যানিটারি সামগ্রী এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর মান আগে নির্ধারণ করলে মাঝপথে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কমে।

একাধিক বিক্রেতার কাছ থেকে দর নিন

একই উপকরণের জন্য একাধিক বিক্রেতার কাছ থেকে দর নিয়ে দাম, মান, পরিবহণ, সরবরাহ এবং অন্যান্য শর্ত তুলনা করতে পারেন।

শুধু সবচেয়ে কম দামের উপকরণ বেছে নেবেন না

নির্মাণের ক্ষেত্রে কম দামই সব নয়। উপকরণের মান, আসল পণ্য, নির্ধারিত মানদণ্ড এবং আপনার প্রকল্পের জন্য উপযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

বড় পরিমাণে কেনাকাটার পরিকল্পনা করুন

বাড়ি তৈরিতে বেশি পরিমাণে রড, সিমেন্ট, টাইলস বা অন্যান্য উপকরণ লাগলে নির্মাণের সময়সূচি অনুযায়ী আগে থেকেই কেনাকাটার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

দুই তলা বাড়ি, ব্যক্তিগত বাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন বা অন্য কোনো নির্মাণের জন্য রড, সিমেন্ট, টাইলস, রং ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে জানতে Pahari Home Solutions-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

৭৫৮৪০৫৫৩৫৬
📞 ফোন করুন💬 হোয়াটসঅ্যাপ করুন🛒 আমাদের পণ্য দেখুন

২১. সম্পূর্ণ নির্মাণ বাজেটের নমুনা কাঠামো

আপনি খাতা বা হিসাবের খাতায় নিচের মতো একটি তালিকা তৈরি করতে পারেন।

কাজপরিমাণএককদরমোট টাকা
মাটি কাটার কাজপ্রকল্প অনুযায়ীঘনফুট/ঘনমিটারস্থানীয় দরহিসাব করুন
ভিত্তির কংক্রিটনকশা অনুযায়ীঘনফুট/ঘনমিটারদরহিসাব করুন
লোহার রডনকশা অনুযায়ীকেজি/টনবর্তমান দরহিসাব করুন
সিমেন্টপ্রয়োজন অনুযায়ীবস্তাবর্তমান দরহিসাব করুন
বালিপ্রয়োজন অনুযায়ীঘনফুটবর্তমান দরহিসাব করুন
পাথরপ্রয়োজন অনুযায়ীঘনফুটবর্তমান দরহিসাব করুন
ইট বা নির্মাণ ব্লকপ্রয়োজন অনুযায়ীসংখ্যা/ঘনফুটবর্তমান দরহিসাব করুন
কংক্রিটের শ্রমিকপ্রকল্প অনুযায়ীকাজ অনুযায়ীদরহিসাব করুন
প্লাস্টারবর্গফুটবর্গফুটদরহিসাব করুন
টাইলসবর্গফুটবর্গফুটদরহিসাব করুন
বৈদ্যুতিক কাজপ্রকল্প অনুযায়ীসম্পূর্ণ কাজদরহিসাব করুন
জলের পাইপের কাজপ্রকল্প অনুযায়ীসম্পূর্ণ কাজদরহিসাব করুন
রংবর্গফুটবর্গফুটদরহিসাব করুন
জলরোধী ব্যবস্থাপ্রয়োজন অনুযায়ীবর্গফুটদরহিসাব করুন
দরজা ও জানালাপ্রয়োজন অনুযায়ীসংখ্যা/বর্গফুটদরহিসাব করুন
অন্যান্য খরচহিসাব করুন

২২. প্রতি বর্গফুট হিসাব বনাম বিস্তারিত হিসাব

প্রতি বর্গফুটের হিসাব দ্রুত একটি আনুমানিক বাজেট বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু করার আগে প্রতিটি কাজ ও উপকরণের বিস্তারিত হিসাব তৈরি করা বেশি কার্যকর।

হিসাবের পদ্ধতিসুবিধাসীমাবদ্ধতা
প্রতি বর্গফুটদ্রুত মোট বাজেট বোঝা যায়প্রতিটি উপকরণের পরিমাণ জানা যায় না
কাজ অনুযায়ী হিসাবপ্রতিটি কাজের খরচ আলাদাভাবে দেখা যায়সময় বেশি লাগে
পরিমাণ ও কাজের তালিকাউপকরণ কেনা ও খরচ নিয়ন্ত্রণে সুবিধানকশা ও কারিগরি তথ্য দরকার

২৩. দুই তলা বাড়ির বাজেট তৈরির সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি

  1. জমির মাপ নিন
  2. বাড়ির নকশা তৈরি করুন
  3. ভূতল ও প্রথম তলার নির্মিত এলাকা নির্ধারণ করুন
  4. মাটির অবস্থা পরীক্ষা করুন
  5. কাঠামোর নকশা তৈরি করুন
  6. লোহার রডের পরিমাণ নির্ধারণ করুন
  7. সিমেন্ট ও অন্যান্য উপকরণের পরিমাণ নির্ধারণ করুন
  8. শ্রমিকের খরচ হিসাব করুন
  9. টাইলস, রং, বৈদ্যুতিক ও জলের কাজের মান নির্ধারণ করুন
  10. বিভিন্ন বিক্রেতার কাছ থেকে দর সংগ্রহ করুন
  11. পরিবহণ ও মাল ওঠানো-নামানোর খরচ যোগ করুন
  12. অতিরিক্ত খরচের জন্য অর্থ রাখুন
  13. সবশেষে মোট নির্মাণ বাজেট তৈরি করুন

২৪. নির্মাণ বাজেটের সম্পূর্ণ তালিকা

  • ☐ জমির মোট আয়তন
  • ☐ ভূতলের নির্মিত এলাকা
  • ☐ প্রথম তলার নির্মিত এলাকা
  • ☐ বাড়ির নকশা
  • ☐ কাঠামোর নকশা
  • ☐ মাটির অবস্থা
  • ☐ ভিত্তির হিসাব
  • ☐ লোহার রডের পরিমাণ
  • ☐ সিমেন্টের পরিমাণ
  • ☐ বালির পরিমাণ
  • ☐ পাথরের পরিমাণ
  • ☐ ইট বা নির্মাণ ব্লকের পরিমাণ
  • ☐ শ্রমিকের খরচ
  • ☐ টাইলস ও মেঝে
  • ☐ দরজা ও জানালা
  • ☐ বৈদ্যুতিক কাজ
  • ☐ জলের পাইপের কাজ
  • ☐ স্যানিটারি সামগ্রী
  • ☐ রং
  • ☐ জলরোধী ব্যবস্থা
  • ☐ রান্নাঘরের কাজ
  • ☐ সিঁড়ি
  • ☐ রেলিং
  • ☐ সীমানা প্রাচীর ও প্রধান দরজা
  • ☐ পরিবহণ
  • ☐ অন্যান্য খরচ
  • ☐ অতিরিক্ত জরুরি বরাদ্দ

২৫. Pahari Home Solutions থেকে নির্মাণসামগ্রী

একটি বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক নির্মাণসামগ্রী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Pahari Home Solutions বাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পপ্রকল্প এবং বিভিন্ন নির্মাণকাজের জন্য লোহার রড, সিমেন্ট, টাইলস, রং, নির্মাণ রাসায়নিক এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে সহায়তা প্রদান করে।

আপনার প্রকল্প অনুযায়ী কোন উপকরণ, কোন মান এবং কত পরিমাণ প্রয়োজন হবে তা প্রকৌশলী বা স্থপতির অনুমোদিত নকশা ও প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত।

আপনার সমস্ত নির্মাণের প্রয়োজনের জন্য এক জায়গায় সমাধান

৭৫৮৪০৫৫৩৫৬
📞 এখনই ফোন করুন 💬 হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করুন 🛒 আমাদের পণ্যসমূহ দেখুন

২৬. উপসংহার

ভূতল ও প্রথম তলা মিলিয়ে দুই তলা বাড়ি তৈরির খরচ হিসাব করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল প্রথমে মোট নির্মিত এলাকা নির্ধারণ করা এবং তারপর নির্মাণের প্রতিটি অংশের খরচ আলাদাভাবে হিসাব করা।

মোট নির্মাণ ব্যয় = উপকরণের খরচ + শ্রমিকের খরচ + সাজসজ্জার খরচ + পরিষেবা + পরিবহণ + অন্যান্য খরচ + অতিরিক্ত জরুরি বরাদ্দ

শুধু প্রতি বর্গফুটের একটি আনুমানিক দর ধরে পুরো বাড়ির চূড়ান্ত বাজেট নির্ধারণ না করে লোহার রড, সিমেন্ট, বালি, পাথর, ইট, শ্রমিক, টাইলস, রং, বৈদ্যুতিক কাজ, জলের ব্যবস্থা, দরজা-জানালা, জলরোধী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য কাজের আলাদা হিসাব তৈরি করলে নির্মাণ বাজেট অনেক বেশি পরিষ্কার হবে।

বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে উপকরণের প্রাপ্যতা, পরিবহণের খরচ, শ্রমিকের দর এবং নির্মাণের মান অনুযায়ী প্রকৃত খরচ পরিবর্তিত হতে পারে।

তাই বাড়ি তৈরির আগে একজন যোগ্য স্থপতি বা কাঠামো প্রকৌশলীর পরামর্শ নিয়ে নকশা এবং বিস্তারিত নির্মাণ হিসাব তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Pahari Home Solutions — নির্মাণসামগ্রীর বিশ্বস্ত ঠিকানা

আপনার সমস্ত নির্মাণের প্রয়োজনের জন্য এক জায়গায় সমাধান

৭৫৮৪০৫৫৩৫৬
📞 এখনই ফোন করুন 💬 হোয়াটসঅ্যাপ করুন 🛒 আমাদের পণ্য দেখুন

দাবিত্যাগ: এই লেখায় দেওয়া হিসাবের পদ্ধতি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় স্থান, মাটির অবস্থা, কাঠামোর নকশা, বাড়ির আকার, উপকরণের মান, ব্র্যান্ড, শ্রমিকের দর, পরিবহণ, সাজসজ্জার মান এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত কাঠামোগত নকশা ও নির্মাণ হিসাবের জন্য যোগ্য স্থপতি বা কাঠামো প্রকৌশলীর পরামর্শ নিন।

Developer PHSPL
Developer PHSPL
Articles: 8
Call us
Products
Home
Enquiry
WhatsApp
error: Content is protected !!